সৎ মেয়ের অসৎ পিতা !

পিতা জন্ম দাতা পিতা হউক আর সৎপিতা হউক পিতার স্হান একজন মানুষে কাছে অনেক উপরে । কন্যার মান সম্মান ও ইজ্জত একজন পিতার কাছে নিজের জীবনের চেয়ে ও অধিক মূল্যবান । একজন পিতা হয়ে যখন কন্যাকে ধর্ষন করে তার চেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ এই দুনিয়াতে আছে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন ? সংবাদ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে  নতুন যে ধর্ষনের ঘটনা সমগ্র জাতিকে নাড়া দিয়েছে তা হলো বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ ২৪-এর শব্দ প্রকৌশলী আরমান হোসেন সুমনের ধর্ষনের ঘটনা । সুমন তার স্ত্রীর মেয়েকে অর্থাৎ সৎমেয়েকে দীর্ঘ আট বছর যাবৎ ধর্ষন করে আসছে । বলতে গেলে দীর্ঘ আট বছর যাবৎ সুমন একটি শিশুমেয়ে কে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে । মেয়েটির বয়স যখন এগারো বছর তখন তার মা বিয়ে করেন ধর্ষক সুমনকে । বিয়ের সময় অবশ্যই মেয়েটির মায়ের সুমনের কাছে দাবি ছিল তার মেয়েকে নিজের মেয়ের মত করেই বড় করবে সুমন । ইচ্ছায় অনইচ্ছায় মেয়েটির মাকে বিয়ে করার জন্য সুমনও তার ঐ দাবি মেনে নিয়েছিল । সুমনের ঘরে আশার পর মেয়েটি ও সুমনকে বাবা বলেই প্রথমে ডেকেছে । কিন্তু এ ধরনের সুমনরা যে  বাবা হবার যোগ্যতা নেই তা হয়তো স্বপ্নে ও ভাবেনি মেয়েটি । ২০০৮ সালের কোনো একদিন দুপুর থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই মেয়েকে নিজ ঘড়েই ধর্ষন করে আসছিল সুমন । দীর্ঘ সময়  যৌন নির্যাতনের শিকার মেয়েটির ধৈর্যের সব বাধ ভাঙ্গার পরই মেয়েটি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্যহয় এর ই মধ্যে একবার নাকি মেয়েটোর গর্ভপাত ও ঘটানো হয় । ২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস এই দীর্ঘ সময় ধর্ষক সুমন চাকরি করেছে সমাজের অনেক সভ্যমানুষের সাথে মিলেছে  কিন্তু নিজেকে নিজের ঘড়ে সভ্য মানুষ হিসেবে মিলাতে পারেনি ।

পত্রিকায় খবর এসেছে, কন্যাকে ধর্ষণ করেছে বলে সুমনের নাকি কোন অনুশোচনা ই নেই। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন যদি কোন মানুষের ভিতরে অনুশোচনা বোধ অর্থাৎ মনুষত্ব বোধ তথা সামজিক মূল্যবোধ থাকে তা হলে তার পক্ষে কি এমন জঘন্য কাজ করা সম্ভব ? সুমনের দাবী সে নাকি মেয়েটিকে ও বিয়ে করেছে । আমি জানি না পৃথিবীর কোন ধর্ম রাষ্ট্র বা সমাজ একই সাথে মা ও মেয়েকে বিয়ে করার স্বীকৃতি দিয়েছে কি-না ? তাই স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের মত একটি কট্টর ধর্মীয় বিশ্বাসী রাষ্ট্রে সুমনের এমন দাবী কি মানান সম্মত ? মেয়েটির মা  অর্থাৎ সুমনের স্ত্রী  তার মেয়ের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা পুরোটাই নাকি জানতেন তাই স্বাভাবিক ভাবে ই প্রশ্ন একজন মা হয়ে কেন মেয়ের ইজ্জত নিজের স্বামীর হাত থেকে রক্ষাকরতে পারলে না কেন প্রতিবাদ করতে পারলেন না নিজের স্বামীর এই জঘন্য অপকর্মের ? সুমন আজ আইনের হাতে বন্দি জানিনা আইন সুমনকে কি সাজা দিবে ? মেয়েটি মা আজো রাষ্ট্রের মুক্তবায়ুতে ঘুরে বেরাচ্ছেন জানিনা নিজ মেয়েকে ধর্ষনের জন্য স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের রাষ্ট্র তথা আইন কোন সাজার ব্যবস্হ্যা করছেন কি না ?

 

আজ আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রে অনেক সুমনের ই যৌনলালসার স্বীকার অনেক শিশু অথবা তরুনী । কিছু ঘটনা আমারা জানলে ও বাকি ঘটনা ধামা চাপা পরে যায় অর্থশক্তি পেশী শক্তি আর ক্ষমতার দাপটের কাছে । ধর্ষনের মত জঘন্য ঘটনার শস্তির জন্য দেশে আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগের যথেষ্ট অভাবের কারনে ই আমাদের সমাজে ধর্ষনের মত জঘন্য ঘটনা অহরহ ঘটছে । তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগ সহ আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে ধর্ষনের মত ব্যাধি থেকে আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s