প্রহসনের রাজনীতি ও শিমুলের রক্তমাখা পরিচয় পত্র

সাংবাদিক হত্যা বা নির্যাতন বাংলাদেশে নতুন কিছুই নয় ।আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও পাকিস্হানী হায়নাদের হাতে  জীবন দিতে হয়েছিল সিরাজুদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভিন ,শহীদুল্লা কায়সার প্রমুখ সাংবাদিকদের । স্বাধীনতার পর ও এই তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে   ।গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে গুলিতে নিহত হন দৈনিক সমকাল-এর শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল । কেউ বলছেন শিমুল দুই গ্রুপের সংর্ঘষের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আবার কেউ বলছেন শিমুল দুই গ্রুপের সংর্ঘষের সময় অস্ত্র মহড়ার ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়র ও আওয়ামীলিগ নেতা হালিমুল হকের অস্ত্রহাতে ছবি তুলছিলেন   এতে  পৌর মেয়র হালিমুল হক রাগে সাংবাদিক শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন । যে ভাবেই হউক ক্ষমতাশীন আওয়ামীলিগের দুই পক্ষের সংর্ঘষের ফল ই এ ঘটনা এটাই সত্য । আমি এখানে দুইটা বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব সাথে দেখছি যার প্রথটি হলো সাংবাদিক হত্যা আর দ্বিতীয়টি হলো ক্ষমতাসীনদের অন্তদলীয় কোন্দল ও সংঘর্ষ ।

বাংলাদেশে সাংবাদিকরা বরাবরই ক্ষমতাশীনদের চোখের শূল । যে যেই ভাবে পেরেছে সাংবাদিকদের মুখ ও কলম বন্ধের চেষ্টা করেছে ।এর জন্য জীবন দিতে হয়েছে অনেক সাংবাদিক কেই । বাংলাদেশের অনেক সাংবাদিকের দামী গাড়ি ও রাজকীয় রাড়ি থাকলেও শহড় কেন্দ্রিক বেশির ভাগ সাংবাদিকের ই নূন আনতে পান্থা ফুরোয় অবস্হা আর মফস্বল সাংবাদিকের অবস্হা না বালই ভাল । শিমুল ছিলেন তেমনি একজন মফস্বল সাংবাদিক । সংবাদমাধ্যমের খবরে বিস্মিত হয়েছি শিমুল মারা যাওয়ার সময় ঠিক মত ঘড়ে খবার টুকু ও রেখে যেতে পারেনি । শিমুল আহত হওয়ার পর তার রক্তমাখা পরিচয় পত্রটি সোস্যালমিডিয়া সহ নানা সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । শিমুলের রক্তমাখা ঐ পরিচয় পত্র দেখে সকল সংবাদ কর্মীর ই অন্তত এক মুহুর্তের জন্য হলেও বুক কেঁপেছে কারো কারো চোখ থেকে হয়তো অশ্রু ও নেমেছে ।সবার মনেই প্রশ্ন কেন শিমুলকে জনপ্রতিনিধি মত এক ঘাতকের বুলেটে জীবন দিতে হলো ?

 

আমাদের রাজনীতি তথা রাষ্ট্র পরিচালনায় দীর্ঘদিন যাবৎ মেধার চেয়ে পেশী শক্তি ও অর্থের প্রভাব ই বেশী । আমাদের রাজনৈতিক দল গুলি প্রতিটা দলীয় নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন পত্রগ দিয়ে থাকেন হয় টাকা ওয়ালাদে না হয় সন্ত্রাসীদের । ফলশ্রুতিতে সন্ত্রাসী ও টাকা ওয়ালারাই আমাদের জনপ্রতিনিধির পদ দখল করে নিচ্ছে । রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা ও মনোনয়ন বানিজ্যে অর্থে হচ্ছেন মহবিত্তশালী । আর যারা নিলামে মনোনয়ন কিনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন যে কোন মূল্যে নির্বাচনে লগ্নিকরা টাকা সূদে আসলে তুলে নিবেন এটাই স্বাভাবিক । ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির ভোটার মুক্ত নির্বাচন ও তার পরে সবগুলি নির্বাচনই আমাদের ভাবনার বিশেষ কারন ছিল ।এর পরের ও প্রতিটি নির্বাচন ই ছিল ঐ একই ধাচের । বর্তমান ক্ষমতাশীন আওয়ামীলিগ নিজেদের ক্ষমতা স্হায়ী করার জন্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের  জনপ্রিয়তা প্রমানের জন্য তারা প্রত্যেকটা নির্বাচন কেই নানা ভাবে কুলষিত করেছে ।বর্তমানে  হামলা মামলার ভয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি একদিকে যেমন গর্তে ঢুকেছে অন্যদিকে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা অর্থ সম্পদ কামাতে কোমড়ে গামছা বেধে নেমেছে । এতে করে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নানা ভাগে হয়ে পরেছে বিভক্ত । এই বিভক্তি ও অর্থ সম্পদ কামনোর প্রতিযোগিতায় ই প্রতিনিয়ত ঘটছে নিজেদের মধ্যে নানা সংঘাত ও সংঘর্ষ । এসব সংঘাত সংঘর্ষ জীবন কেরে নিচ্ছে হয়তো দলীয় নেতা কর্মীদের না হয় দেশের নিরীহ জনসাধারনের ।

 

একজন সংবাদিক তার দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিলেন আর ক্ষমতাশীনরা অর্থের লোভে সম্পদের লোভে সংঘাত সংঘর্ষের জন্যই নেমেছিলেন রাস্তায় । ক্ষমতা ও অর্থলোভের কাছেই জীবন দিতে হলো একজন প্রান্তিক নিরীহ সাংবাদিকে । যে মৃত্যুর ঘানি আজীবন বইতে হবে একটি পরিবারকে । জানিনা সাংবাদিক শিমুলের পরিবারের ভাগ্যে কি আছে ?  সাংবাদিক দাম্পত্তি সাগর-রুনির খুনিদের সরকার ও আমাদের আইনশৃংখলা আজ পর্যন্ত ধরতে না পারলে ও শিমুলের ঘাতক খুনি পৌর মেয়র ও আওয়ামিলীগ নেতা হালিমুল হককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এই জন্য সরকার ও আইনশৃংখলা  রক্ষাকারি বাহিনী অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য । তবে এই গ্রেপ্তার সম্পদ ও ক্ষমতা লোভী রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের কতটুকু শৃংখলার মধ্যে আনবে আর হত্যাকারীদের ই বা কি বিচার হবে সেটাই দেখার বিষয় ?

 

লেখক: ওয়াসিম ফারুক , কলামিস্ট

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s