থানচির মানুষ খাদ্য তারা বাঁচতে চায় !

বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ একটি রাষ্ট্র । ১৯৭১ এর তলাবিহীন ঝুড়ির সেই রাষ্ট্র কিছু কিছু বার্তি খাদ্য বিদেশে রপ্তানি ও করছে । যা বঙ্গবন্ধু কণ্যা বর্তমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী ই কৃতিত্ব এ জন্য তাকে ধন্যবাদ না দেয়ার কোন ই উপায় নেই । থানচির বর্তমান অবস্হা আমাদের সেই অর্জনকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে । থানচি বান্দরবানের আদিবাসী অধ্যুষিত একটি উপজেলা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরের আদিবাসী অধ্যুষিত জনপদের মানুষগুলির জীবন জীবিকার মূল উৎসই পাহাড়ে জুম চাষ ৷ এই জুমিয়া মানুষ গুলির ভাগ্য পুরোটাই প্রকৃতি নির্ভর । আবহাওয়া ভাল হলে জুম চাষে ফলন ভাল হয় তাতে হয়তো বছরের খোরাক ঘড়ে তুলতে পারে অনেক জুম্ম পরিবার ।যদি আবহাওয়া একটু পল্টি মারে জুম্ম মানুষ গুলির সাথে তাহলে তাদের ভাগ্যে কি জুটে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । এবার আবহাওয়া বৈরি আচরন জুম্ম মানুষ গুলিকে চরম বিপাকে ফেলেছে বিশেষ করে দূর্গম থানচির মানুষগুলিকে । অতিবর্ষণের কারণে এবার জুমচাষীরা যতসামান্য ফসল নিয়ে ঘড়ে ফিরেছে গত বছরের জমানো খাদ্য শষ্য ও শেষ৷৷ এ কারণে ই থানচির প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখন চরম খাদ্যসংকটে তারা আজ বুনো লতাপাতা আর বুনো আলু খেয়ে  বেঁচে আছেন । যাদের ঘড়ে ও কিছু খাদ্য মওজুদ ছিল তা ই আশে পাশের অনাহারি মানুষ গুলিকে বাঁচানোর জন্য ধার হিসেবে বিতর করে দিয়ে তারা ও খাদ্যাভাবে পরেছে ।

 

থানচির বর্তমান পরিস্থিতিকে যদিও দুর্ভিক্ষ বলতে চাইনা, তবে সরকার যদি  আতি দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ না নেয় পরিস্থিতি সেদিকেই যাওয়ার সম্ভবনা বেশি ।জুম্ম মানুষ গুলি যেহেতু জুমচাষের উপর ই নির্ভরশীল তাই সরকারকে আগামী জুম ফসল ঘরে ওঠার আগ পর্যন্ত অন্তত্য মাস সাতেক  এই পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা অবশ্যই দিতে হবে তার আগে বর্তমান পরস্হিতি মোকাবেলার জন্য জরুরীভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে । প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে বান্দরবানের থানচি, রুমা, রাঙামাটির সাজেক, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি উপজেলায় একই কারণে খাদ্য সংকট দেখা দেয়৷ তখন মে থেকে অক্টোবর এই ছয় মাসের জন্য সাড়ে ছয় হাজার পরিবারকে একটি প্যাকেজের আওতায় খাদ্য সাহায্য দেয়া হয়৷ প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৫০ কেজি চাল, নগদ ১২শ’ টাকা, ৩ লিটার ভোজ্য তেল, গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৬ কেজি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য এবং জুমের বীজ কেনার জন্য পরিবার প্রতি এককালীন দুই হাজার টাকা করে দেয়া হয়৷তখন সরকারের পাশাপশি বিভিন্ন এনজিও এগিয়ে এলেও এবার এনজিওদের কোনো সাড়া নেই দুর্গত এলাকায় ৷

 

বঙ্গবন্ধু কণ্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ই বলছি , আপনার বলিষ্ট নেতৃতে বাংলাদেশ আজ অনেক এগিয়ে গেছে খাদ্যে ও স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়েছে । আপনি প্রথম সেই ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভার গ্রহন করেই ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি মাধ্যমে আমাদের সবুজ পাহাড়ে শান্তির ছোয়া এনেছেন । পাহারে আজ আর রক্ত স্রোত প্রবাহ হয় না । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ থানচির মানুষগুলির ঘড়ে খাদ্য নেই তারা খাদ্য চায় । আমরা চাইনা খাদ্যাভে থানচির একটি মানুষের ও জীবননাশ হউক । থানচির মানুষ ও বাঁচতে চায় । থানচির আমাদের স্বাধীন বাংলাদের ই একটি অংশ তাই আমাদের পাহাড়ে বসবাসরত জুম্ম মানুষ গুলি দুবেলা দুমুঠো খেয়ে শান্তিতে জীবন ধারন করুক এটাই প্রত্যাশ ।

 

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s