ভান্তে হত্যা ও কিছু ভ্রান্ত কথা !

মুয়াজ্জিন, মাওলানা, পীর, যাজক, ভিক্ষু,পুরহিত, শিক্ষক, ব্লগার, বিদেশি নাগরিক, পুস্তক প্রকাশক কিংবা সমকামি অধিকার কর্মীরা সবাইকেই চাপাতি আর বুলেট তাড়া করে ফিরছে । চাপাতি, বুলেটের গেড়া কলে কে যে কখন পরে যাই তার কোন নিশ্চয়তা এখন আর নেই আর না থাকার ই কথা কারন সরকারে চোখে সব ই যে এক একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ।আমাদের সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলবেন ই না কেন কোন টা ঘটছে পন্চগড়ে আবার কোন টা বান্দরবানে । কখনো খুন হচ্ছেন মসজিদের ইমাম কখনো বা ক্যায়াং এর ভিক্ষু কখনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কখনো বা ব্লগার আবার কখনো বা খুন হতে হচ্ছে বিদেশি নাগরিক কে । দেশে চাঞ্চল্য কর খুনের মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে চলছে । আমাদের সরকারে কর্তাব্যক্তিদের লাগাম হীন কথা বার্তা ই আমার কাছে মনে হয় খুনিদের বিশেষ ভাবে উৎসাহিত করছে এবং করেছে । প্রতি টি ঘটনার পর ই সরকারী মহল থেকে যে ধরনের বক্তব্য আসে তাতে জাতি হিসেবে আমরা শুধু আশাহত ই হই না বরং স্তম্ভিত হই লজ্জিত ও হই । নানান সমালোচনার পরে ও আমাদের সরকারের কর্তাব্যক্তিরা লাগামহীন ভাবে তাদের ইচ্ছামাফিক বক্তব্য দিয়ে ই যাচ্ছেন! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে যে আমাদের সরাকরি কর্তাব্যক্তিদের কানে কি কোন ভাবেই আমাদের সমালোচনা পৌছেনা নাকি তারা আমাদের সাধারন মানুষের সমালোচনাকে কোন ভাবেই পরোয়া করেন না?

 

গত শনি বার অর্থাৎ ১৪ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহারের (ক্যায়াং) প্রধান ভিক্ষু মংসই উকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ভিক্ষু মংসই উর পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী ভিক্ষু মংসই উর কোন শত্রু ছিল না। তিনি নিজের মতোই থাকতেন। কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা ও বলতেন না। দুবছর আগে ভান্তের দায়িত্ব নেবার আগ পর্যন্ত তিনি কৃষিকাজ করতেন। তবে কি কারনে ভিক্ষু মংসই উ খুন হয়েছেন এমন টি ও কেউ নিশ্চিত নন । বাংলাদেশে সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে ভিন্ন মতাবলম্বী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষকে যে ভাবে হত্যা করা হচ্ছে এটা তার ধারাবাহিকতা কি না সেটা ও পরিস্কার নয় ।সবাইকেই গলায় কিংবা মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।পরবর্তীতে ইন্টারনেইটে দেশী কিংবা বিদেশী জঙ্গি গোষ্ঠির তরফ থেকে এসব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছে।

 

কোন জঙ্গি গোষ্ঠি এখন পর্যন্ত এর দায় স্বীকার করেনি তবে এ খুনের সংবাদ প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় এ খুনের দায় ভার ভিক্ষু মংসই উর স্বজনদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন । স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে কোন তথ্যের ভিত্তিতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় কোন কিছু না ভেবে চিন্তেই দায় ভার স্বজনদের কাধে চাপালেন ? চাকপাড়া গ্রাম টি এতই দুর্গম যে নাইক্ষংছড়ি থেকে মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোন যানবাহন সেখানে খুব একটা পৌঁছাতে পারে না।যে ক্যাংয়ের ভেতরে ভিক্ষু খুন হয়েছেন সেখানে চাকপাড়া গ্রাম থেকে একমাত্র পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়। ভিক্ষু মংসই উর খুনের ঘটনা জানা জানি হয় সকাল বেলা এলাকাটি দুর্গম হওয়াতে স্বাভাবিক ভাবে ই ঘটনাস্হলে আইন শৃংখলাবাহীনির পৌছতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে এবং অনেকটা সময় ও লেগেছে । অথচ আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তখন ছিলেন রাজশাহীতে । স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে কোন তদন্তের আগে ই কোন অলৌকিক শক্তির বলে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ চাপালেন ভিক্ষু মংসই উর স্বজনদের উপর ? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তবে আমার কাছে কেন জানি মনে হয়েছে যেহেতু এধরনের প্রতিটি ঘটনার পরই বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠি চব্বিশ ঘন্টা বা তার আগেই দায় স্বীকার করে নিয়েছে তাই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় যদি আগে ভাগেই করো উপর দায় চাপাতে পারেন তবে হয়তো জঙ্গী গোষ্ঠি আর এ দায় স্বীকার করবে না । এ দায় যদি কোন জঙ্গী গোষ্ঠি স্বীকার না করে তা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় কিছুটা হলে ও স্বস্তি বোধ করবেন । তা না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মত একটি গুরু দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই কোন তদন্ত ছাড়াই একটি চাঞ্চল্যকর খুনের দায় চাপিয়ে দিলেন খুন হয়ে যাওয়া ব্যক্তির স্বজনদের উপর । আবার সরকারের কেউ কেউ বলছেন যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনওর দাবি, যারা পাহাড়ের পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চায়, তারা এটা ঘটিয়েছে আর বান্দরবানের পুলিশ সুপার বলেছেন দুর্গম এলাকায় কেন এই খুন, তা এখনই বলা সম্ভব নয় ।

 

একজন অজাতশত্রু বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে আমাদের আইনশৃংখলারক্ষা বাহিনী তিনজনকে গ্রেফতরা করছে যাদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা ও অন্যজন নিহত ব্যক্তির দূরসম্পর্কের আত্মীয়। নিহত ব্যক্তির পরিবার বলেছে, ওই আত্মীয়র সঙ্গে তাদের কারও কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। সুতরাং প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে এ ধরনের রহস্যজনক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড গুলোর আসামিদের কে কিজল্পনাকল্পনা ভিত্তিতে ই গ্রেফতার করা হচ্ছে না সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় চেষ্টা করা হচ্ছে ? যে কোন হত্যাকান্ড যারা যে কারণেই ঘটিয়ে থাকুক না কেন, আমাদের প্রত্যাশ হলো শুধু ভিক্ষু মংসই উর হত্যার ঘটনা ই নয় প্রতিটি অপরাধের ই রহস্যভেদ করে বিচার নিশ্চিত করা আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা । তা না হলে অতি নিকটেই আমার সমাজ তথা রাষ্ট্র আমাবশ্যার রাহুর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাবে ।

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s