শফিক রেহমানের গ্রেফতার জয় ও ইমরানের ফেইসবুক যুদ্ধ ।

সাংবাদিক শফিক রেহমান কখনো সৃষ্টি আমার কখনো সমস্যার নাম তার সম্পাদিত সাপ্তাহিক যায়যায় দিন স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অবস্হানের কারণে তাকে দেশ ছাড়া হতে হয়েছে । আবার ২০০৬ সালের অক্টোবরে নিজ দৈনিকের সাংবাদকর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে গোপনে দেশ ছাড়া হতে চেয়ে ও পারেন নি । সে দিন অবশ্য সংবাদ কর্মীদের সর্তকার কারনে বিমান বন্দরের ই আটকে যান শফিক রেহমান ।আমাদের দেশে এখন মহাধুমধামে যে বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালিত হয় এর ও সূচনা করে শফিক রেহমান । শহীদ জননী জাহানারা ইমামের লেখা “একাত্তরের দিনগুলি ” প্রথম শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সন্ধানীতেই ধারাবাহিকভাবে বেরোয় যা পরবর্তীতে সন্ধানী প্রকাশনী থেকেই বই আকারে প্রকাশ করা হয় । শফিক রেহমানের পূর্বে নাকি নাম ছিল শফিক রহমান কিন্তু যে কোন কারনে ই হউক তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রহমানের বদলে রেহমান বসান । আমি শফিক রেহমান কে নিয়ে কোন তর্কে যেতে চাই না কিন্তু গত শনিবার অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পর আমার অত্যন্ত প্রিয় দুইজন স্বানমধন্য ব্যক্তি শফিক রেহমানের গ্রেফতার নিয়ে বিশেষ বির্তকে জড়িয়ে পরেছেন তারা হলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার পুত্র জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র জনাব ইমরান এইচ সরকার ।
শফিক রেহমানের গ্রেফতার পর গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র জনাব ইমরান এইচ সরকার তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও রিমান্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান । ইমরান তার স্ট্যাটাসে লিখেন ” প্রবীণ (৮১ বছর বয়সী) সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে আমি একমত নই। ভিন্নমতের হলেই তাকে দমন করার যে নোংরা রাজনৈতিক অপকৌশল, এর একটা অবসান চাই।দেশে যখন একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে, লেখক-প্রকাশক-বিদেশী থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দিরে ঢুকে মুয়াজ্জিন-পুরোহিতকে হত্যা করা হচ্ছে তখন খুনীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে এমন একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার সত্যিই হতাশাজনক। আমি প্রত্যাশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং প্রতিপক্ষকে দমনের চেয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হবে ।”
এর ই প্রতি উত্তরে জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ইমরান এইচ সরকার কে সুবিধাবাদী ও মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করে তকে সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন সেই সাথে ইমরান বিএনপির কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকতে পারেন বলে ও অভিযোগ তুলেন ,ইমরান এইচ সরকার কে ফেইস বুক থেকে আনফ্রান্ড বা আনফলো করার আহ্বান ও জানান সজীব ওয়াজেদ জয় ।স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় আরো লিখেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট আব জাস্টিস আমাকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমানর সংশ্লিষ্টতা উদঘাটন করেছে । এ দিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্হান রত দেশের খ্যাতনামা সাংবাদিক ও ” সাপ্তাহিক ” সম্পাদক জনাব গোলাম মোর্তাজা তার ফেইসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ” যে মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মার্কিন আদালত সেই মামলায় কারও কারও শাস্তি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একজন বিএনপি নেতার ছেলে এবং এফবিআই ‘র একজন সাবেক এজেন্ট এই মামলায় শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘হত্যা ও অপহরণ ‘র যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মামলার কাগজ পত্রে সেই অভিযোগের কোনো প্রসঙ্গ তো দেখছি না। আমি যতদূর জানি এই মামলার সব কাগজ পত্রই প্রকাশিত। ‘ক্ষতি সাধণ ‘ র জন্যে ঘুষ দিয়ে তথ্য নেয়ার অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ আছে মামলার কাগজ পত্রে। ‘হত্যা ও অপহরণ ‘ র বিষয়টি তো কাগজ পত্রে খুঁজে পাচ্ছি না “।
সাংবাদিক শফিক রেহমানকে কি কারনে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে এর পক্ষে-বিপক্ষে এখন নানান কথা হচ্ছে। তাই এ নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই না । ইমরান এইচ সরকার গনজাগরনের কর্মী তার নেতৃত্বে ই ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুরারি জন্ম নিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চের আমরা দেখেছি লাখো জনতার জয় বাংলা স্লোগানে সেদিন গুলিতে মুখোরিত ছিল শাহবাগ । ইমরান এইচ সরকার আজ আর কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নন তিনি আজ দেশের এক তারুণ্যের প্রতীক তাই কেউ চাইলেই তাকে খুব সহজে আনফ্রান্ড বা আনফলো করা সম্ভব নয় । আজ যদি ইমরান এইচ সরকারে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তা হলে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুরারি জন্ম নেয়া জাগ্রত জনতার সেই গনআন্দোলকে । সমালোচক ও শত্রুদের মুখে বার বার সামালোচিত হচ্ছে আমাদের প্রাণের দাবী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার । আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাখো বাঁধা উপেক্ষা করে ও চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একাত্তরের মানবতাবিরোধি অপরাধীদের বিচার । ইতোমধ্যে কারো কারো সাজা কার্যকর ও হয়েছে এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাতি চির কৃতজ্ঞ । একাত্তরের মানবতাবিরোধি অপরাধীদের বিচারের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য যারা বিশেষ আগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে সেটা হলো গণজাগরণ মঞ্চ ও এর সাথে সম্পৃক্তরা যার নেতৃত্বে ছিলেন এই ইমরান এইচ সরকার । তাই ইমরান এইচ সরকার নৈতিকতার দিকে তীর ছুরে মারলে সেই তীর হয়তো ক্ষত বিক্ষত করবে অনেক কিছুকেই । শত্রুর গলায় বেঁধে দেয়া হবে হয়তো উৎসাহের ঢোল । সজীব ওয়াজেদ জয় আমাদের তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের অগ্রদূত যার দৃড় প্রত্যয় ও প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে গেছে বহু দূর । জাতি তার থেকে ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছুর ই আশা করেন হয়তো আশা করেন দেশের নেতৃত্বে ভার গ্রহনের ও । জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় যদি হুট করে কোন মন্তব্য না করে একটু ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে মন্তব্য করেন তা হয়তো হবে দেশ ও জাতির জন্য অনেক টা কল্যান কর । সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার সজীব ওয়াজেদ জয় ও ইমরান এইচ সরকারের ফেইসবুক স্ট্যাটাস যুদ্ধ জাতি কিভাবে গ্রহন করবে সেটা ও আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে ?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s