এ কি শুনালো দাবিক !

আমাদের দেশে গত বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যার পর পরই এসব হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে নিয়ছে উগ্রবাদি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ।যদি ও আমাদের সরকার ও তার প্রশাসন বরাবর ই আমাদের দেশে ইসলামিক স্টেট এর অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছে । ইসলামিক স্টেট ও কিন্তু বরাবর ই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আসছে । আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া পূর্বের ঘটনা গুলি আমাদের মনের ভিতর চরম আতংকের জন্ম দিলে ও সরকারের ইসলামিক স্টেট এর অস্তিত্ব অস্বীকার মনের ভিতর কিছুটা হলে ও সাহস যুগিয়ে ছিল ভেবেছিলাম হয়তো এসব ঘটনা গুলি ভিন্ন কোন গোষ্ঠী ঘটিয়ে আইএসের নাম ব্যবহার করে বাঘের নাম দিয়ে শিয়ালে গরু খেয়েছে । কিন্তু অতি সম্প্রতি আইএস এর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পত্রিকা ” দাবিক ” এর চলতি রজব মাসের সংখ্যা প্রকাশের পর মনের ভিতর জুজুর সেই হ্য় নতুন করে শক্ত ভাবেই বাসা বেঁধেছে ।এবার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) তদের বাংলাদেশ শাখার প্রধানের নাম প্রকাশ করে সেই সাথে তার একটি দীর্ঘ স্বাক্ষাতকার ও প্রকাশ করেছে । দাবিক এর তথ্য মতে আইএসের তথাকথিত বাংলাদেশ শাখার প্রধানের নাম শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ যদি ও শায়খ আবু-ইব্রাহিম আল-হানিফের তেমন বিস্তৃারিত জানানো হয় নি তবে তার স্বাক্ষাতকারে উপমহাদেশে আইএসের বিশদ কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে সেই সাথে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় তাদের স্বার্থকতার বর্ণনা ও দেয়া হয়েছে ।

 
দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে আইএস-এর কথিত বাংলাদেশ প্রধান শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ বাংলাদেশে আইএসের বিভিন্ন অভিযান সম্পর্কে সগর্বে বলেন, ” ইসলামবিরোধী ও নাস্তিকদের অনেকে ভীতসন্ত্রস্ত। মুজাহিদীনদের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার কথা বলার মাধ্যমে তাদের ভীতির কথা পরিষ্কার হয়ে গেছে ” । অনেকটা হুমকি ও হুংকারের সুরেই যেন তিনি বললেন, “নাস্তিক ও মুরতাদদের গলা কাটার জন্য আমাদের যোদ্ধারা এখন ছুড়ি ধার করছে “।আবু ইব্রাহিমের সাক্ষাৎকার ছাড়াও দাবিকের এ সংখ্যায় বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সংগঠন ইসলামিক স্টেট এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে পঞ্চগড়ে ধর্মযাজক যগেশ্বর রায়কে হত্যা এবং তাঁর দুই ভক্তকে আহত করার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ” হিন্দু ব্যবসায়ী ” তরুণ দত্ত, ঝিনাইদহের খোমিনি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক হাফিজ আবদুর রাজ্জাককে হত্যা করে ” নিরাপদে ঘাঁটিতে ” ফেরার তথ্য দেওয়া হয়েছে ।বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়তে চাওয়ার পেছনে কৌশলগত অবস্থানের বিষয়টি উঠে আসে কথিত এই নেতার কথায়। শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ বলেন, এখান থেকেই ভারত ও মিয়ানমারে জিহাদ পরিচালনা সুবিধাজনক হবে। এ জিহাদের লক্ষ্য হিসেবে ” মুসলিম হত্যার প্রতিশোধ ” ও ” এই অঞ্চলে আইএসের খিলাফত প্রতিষ্ঠাকে ” তুলে ধরেন তিনি।এ ছাড়া আবু জানদাল আল-বাঙ্গালি নামের নিহত এক বাংলাদেশি আইএস সদস্য কে নিয়ে একটি বিশেষ প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে দাবিক ।আবু জানদাল আল-বাঙ্গালির পরিচয় হিসেবে প্রকাশ করা হয় তিনি বিডিআর বিদ্রোহে নিহত এক কর্মকর্তার ছেলে এবং ছাত্র যিনি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিশেষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা বলে মধ্যপ্রচ্যের ভিসা নিয়ে সিরিয়ায় এসে আইএস জঙ্গিদের সাথে যুদ্ধে শরিক হন পরবর্তীতে ।

 

এতো কিছুর পর আমারা হয়তো আমাদের সরকার ও তার প্রশাসনের কথায় তেমন আশ্বস্ত হতে পরছিনা । আমারা জানি সরকার কোন না কোন ভাবে উগ্রবাদি ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন গুলিকে নির্মূলে বদ্ধপরিকর ।সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে উগ্রবাদি ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন গুলিকে নির্মূল বা নিয়ন্ত্রনের বিকল্প পথ নেই তার পর ও আমাদেরকে কেন জানি তন্দ্রার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে সরকার । আমাদের কে তন্দ্রার মধ্যে রেখে সরকারের জঙ্গি নির্মূল আদৌ কতটা সম্ভব সেটাই প্রশ্ন ? কারন আমাদের দেশ থেকে জঙ্গি নির্মূল করতে হলে প্রশাসন তথা আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপশি সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা অতি জরুরী । প্রত্যেকটি ঘটনার পর পর ই আমরা দেখি সরকারে কর্তা ব্যক্তিরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে । তাতে হয়তো দেশের সাধারন মানুষের ভিতর কিছুটা স্বস্তি আনতে পেরেছে কিন্তু উগ্র জঙ্গিদের কর্মকান্ড কি মোটেও আয়ত্বে আনতে পেরেছে ? না মোটে ও না বরং দেশের সাধারন মানুষের সাথে সরকারের এই ধরনের লুকোচুরি খেলার কারনেই উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠিরা নিরাপদ স্হানে থেকে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারছে এবং অঘটন ঘটিয়ে নিরাপদে নিজেদের আশ্রয় স্হলে চলে যেতে পারছে । পূর্বের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অঘটনের পর ও আমরা অত্যন্ত আশাবাদী । আমারা দেখতে চাই না মাহন মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশলক্ষ শহীদের রক্ত ও আড়াইলক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময় আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ কোন শকুনের কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হউক । কোন হায়না ধ্বংস করুক আমাদের অস্তিত্ব । তাই এখন ই সময় আমাদের সরকার , তার প্রশাসন ও দেশের প্রতিটি সাধারন মানুষকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নিজ নিজ অবস্হান থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদের এই অপশক্তির বিরুদ্ধে শক্ত ভাবে দাঁড়িয়ে সোনার বাংলা থেকে এই অপশক্তির মূল চিরতরে উৎপাটন করার শপথ নিতে হবে ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s