ডিজিটাল দেশের অর্গানিক দালান !

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে শুনতে খুব ভাল লাগে নিজের ভিতর কেমন জানি একটা অহংকার অহংকার ভাবের জন্ম হয় ।দেশের অনেক কিছুতেই আজ তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া । ঘরে বসেই তথ্যপ্রযুক্তির আশীর্বাদে আমরা কত কাজ সেরে নিচ্ছি ! তাই তো আমাদের রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা গর্বের সাথে বলতে পারে আমাদের  ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা । তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের অনেক কিছুতে পরিবর্তন এলেও আমাদের মান মানসিকাতায় কতটা পরিবর্তন এসেছে এটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে ? অনেক কিছুতেই আমাদের উন্নায়ন ঈর্ষানীয় উর্ধমূখী হলে ও মানসিকতার ক্ষেত্রে আমরা কেন জানি ক্রমানয়ে নীচের দিকে ধাবিত হচ্ছি । কথা গুলি এ কারনেই বলতে হলো যে গত কয়েকদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সংবাদ মাধ্যমের একটি সাংবাদ বার বার নিজেকে প্রচন্ড ভাবে আতংকিত করেছে ।আমাদের দেশে নির্মান কাজের অনিয়মের কথা দীর্ঘ দিন ধরে ই শুনে আসছি । বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি ভাবে নির্মানের অনিয়মের কথা । এর আগে শুনেছিলাম কোথায় যেন একটি কালভার্ট নির্মনে টেন্ডারে টাকা কাজ না করেই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরে খেয়েছে ।

 

কিন্তু এবারের যে ঘটনা পীড়া দিচ্ছে তা হলো চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার ঘটনা । চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৫ তলা ভবনে রডের পরিবর্তে ব্যবহূত হয়েছে বাঁশ ! ভবনটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জয় ইন্টারন্যাশনাল’ পিলার ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারকালে বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। পরে স্থানীয় জনতা হাতুড়ি দিয়ে পিলার ভেঙে দেখেন অনেক স্থানে রডের পরিবর্তে ব্যবহূত হয়েছে বাঁশের চটা। এটাকে “পুকুর চুরি ” এবং বিপজ্জনক নির্মাণ কাজ বলে অভিহিত করেছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ভবনটির নির্মাণ কাজ স্থগিত করে ওই কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কৃষি অধিদপ্তর। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।একই সাথে গাইবান্ধার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণের কাজেও রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারের মেঝে ঢালাই তে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করছিলো নির্মাণ শ্রমিকরা। এ সময় এলাকাবাসী সেখানে গেলে নির্মাণ শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এর আগেও রাতের আধাঁরে শৌচাগারের ছাদ ঢালাইয়ে ও রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে । গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয় যার তত্ববধানে ছিল আব্দুল খালেক নামে সাদুল্যাপুর উপজেলার এক ঠিকাদার।

 

আমাদের দেশে একটি সাধারন কথা চালু আছে ” সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল ” তার মানে সরকারি টাকা বা মালামাল কোথা থেকে কোথায় যায় তা করো ও হদিস থাকে না ।সরকারি বিভিন্ন নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য  সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তি থাকলেও তাদের  ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য ই বির্সজিত হয় আমাদের জনস্বার্থ । আর ঐ সকল কর্তাব্যক্তিদের গাফিলতিতেই  নির্মাণের কিছু দিন না যেতেই ধসে পড়ে ভবন  ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভাট । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন ভবন অথবা  মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার যদি লোকচক্ষুর অন্তরালে নির্মিত হয়েই যেতে তা হলে কিছু দিনের মাথা  হয়তো ঘটতে পারতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাতে হতো মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কিংবা দর্শনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের । বর্তমান সরকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যার জন্য অবশ্যই সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ধন্যবাদ প্রাপ্য । তবে উন্নয়নের নমে যদি সরকারি অর্থের এমন হরিলুট চলতে ই থাকে তাহলে সেই উন্নয়ন হয়তো লোক দেখানো উন্নয়ন ই থেকে যাবে । আর এই উন্নয়ন সত্যিকার অর্থেই যদি টেকসই উন্নয়নে পরিনত করতে হয় তা হলে এধরনের ঘটনার সাথে জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্হা করে  এর একটা বিহিত সরকার কে করতেই হবে ।

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s