৫ জানুয়ারি শান্তি ও সৌহাদ্যের ই যেন হাতছানি !

গত কয়েক দিন বেশ শঙ্কার মধ্যেই পাড় করছিলাম। ২০১৪ থেকে ৫  জানুয়ারি  জাতির জন্য যে অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে তা  এ বার আবার কোন নতুন  দুঃস্বপ্ন নিয়ে আসে সেই কাথা ভেবে । ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি কি হয়েছিল তা নতুন করে বলে সময় অপচয়ের কিছুই নাই , সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন যে আমাদের গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পঙ্গু করে দিয়েছে তা আর বলার অবকাশ রাখেনা। জাতি বিভিন্ন সময় ভোটার বিহীন নির্বাচন উপোভোগ করলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর গড়া দল ও তার কণ্যার অধীনে যে প্রার্থী বিহীন নির্বাচন উপহার পাবে তা কখনোই আশা করে নি। আমাদের জাতিয় আশা আকাংখার প্রতি কখনোই আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের শ্রদ্ধাবোধ তেমন ছিল না আজ ও নেই তার পর ও আমারা নিরাশ হইনা আশা নিয়ে পা বাড়াই নতুন পথে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে ও পরবর্তীতে ২০১৫ এর বর্ষপূর্তিতে বিএনপি-জামাত জোট সমগ্র দেশে  যে নারকীয় তান্ডব চালিয়েছে সে ক্ষত হয়তো সহসায় আমরা ভুলতে পারবো না । টানা ৯২ দিনের প্রাণঘাতী সেই হরতাল-অবরোধ আমাদের জন্য  বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাড়িয়েছিল । এমন  দুঃস্বপ্ন আমাদের জাতীয় জীবনে আর কখনো আসুক এটা কোন ভাবেই কাম্য নয় এর পর ও এবার জানুয়ারি মাস আসার আগেই মনের ভিতর সেই ভয় দুক দুক করছিল । গত কয়েক দিন যাবৎ ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ ছিল মুখোমুখি অবস্হানে । প্রথমে বিএনপি ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতির চেয়ে আবেদন জানালেও পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের দাবীর কাছে হার মানতে হয় প্রসাশনকে । শেষ পর্যন্ত দুই দলই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অবস্থান থেকে সরে দাড়ালে  নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি মিলে বিএনপির আর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয় আওয়ামীলিগ । তার পর ও উৎকন্ঠা এড়াতে পারনি বার বার মনে পরছিল ২৮ অক্টেবর ২০০৬ এর সেই লগি বৈঠার তান্ডবের কথা । অবশেষে কোন অঘটন ছাড়াই রাজধানীর তিন সমাবেশ সহ সারাদেশে দুই দলের সামবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের দ্বিতীয়বর্ষ পূর্তি। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বিনা বাধায় নয়াপল্টনে  তাদের  ” গণতন্ত্র হত্যা দিবস ”  এর সমাবেশ করে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন আর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের আওয়ামীলীগ তাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিহীন  ” গণতন্ত্রের বিজয় দিবস ”  এর জনসভা শেষ করেছেন । জনসভার মঞ্চে উতপ্ত বক্তব্য থাকলেও কোন অশান্ত কর্মসূচীর ঘোষনা আসেনি খালেদা জিয়ার মুখ থেকে গণতন্ত্র সংলাপ আর আলোচনার প্রত্যাশ ও  সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনাই ছিল তার বক্তব্যে ,অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির দিকে আহ্বান জানিয়েছে বেগম জিয়া ও তার দলকে । যাই হউক নানা শঙ্কা ও উৎকন্ঠার পর ও আমরা এবার ৫ জানুয়ারি একটি শান্ত দিন হিসেবে পার করলাম তা আমাদের জন্য আগামীর শান্তি ও সৌহাদ্যের ই যেন হাতছানি ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s