কম্বলের ভাজে সাংবাদিকের সম্মান !

 

” সাংবাদিকের কলম কামানের চেয়েও শক্তিশালী ” সম্রাট নেপোলিয়নের এই উক্তি ই একজন সংবাদিকের মর্যাদা নির্ণনেয়র জন্য যথেষ্ট । তার পর ও আমার দেখা থেকে আমি বলছি চারণ সাংবাদিক সফিউদ্দিন আহমেদের কথা যাকে বলা হয় মফস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ । স্কুল জীবনে তার সানিদ্ধ পেয়েছিলাম যদিও সম্পর্কে তিনি আমার আত্মীয় হন । ভাষাসৈনিক , রাজনীতিবিদ ও কর্মজীবনে ছিলেন সাংবাদিক এত কিছুর পর ও তার অত্যন্ত সাধারন জীবন যাপন সকলকেই আকৃষ্ট করতো । কাধে বেগ আর হাতে পানির লোটা নিয়ে পায়ে হেটে সমগ্র মুন্সীগঞ্জ চষে বাড়াতেন তিনি খোঁজ খবর রাখতেন সুবিধা বঞ্চিত সাধারন মানুষ গুলির । দৈনিক বাংলার পাতায় ছাপা হতো ঐ সকল মানুষ গুলির সুখ দুঃখের কথা । বাম রাজনীতি ছেড়ে প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম লীগের রাজনীতিতে যোগদেয়ার কারনে আপন বড় ভাই তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা শামসুদ্দিন আহমদ বিরুদ্ধে তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সাংবাদিক সফিউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে কথা গুলি বলার কারন অতি সম্প্রতি গাজী টেলিভিশনের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী মুন্নি আক্তারের ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার আমাকে ভীষন ভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে । এক জন সংবাদিক যাকে নাকি সমাজের বিবেক হিসেবে জানা হয় যাকে নাকি সমাজের প্রতিটি মানুষ শ্রদ্ধা ভরা চোখে দেখেন তার দ্বারা এমন নিকৃষ্ট কাজ ! শুধু সেলিম ই নয় আমাদের সমাজে আরো অনেক সেলিম ই আছে যারা সংবাদিকতার এই মহন পেশাকে নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য অত্যন্ত নোংড়া ভাবে কাজে লাগাচ্ছে । আমাদের দেশে সংবাদপত্র সহ সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা কত তা একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আমার বলা খুবই মুসকিল তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ি দেশে অনুমোদন রয়েছে ৪৪টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম, ৩২টি কমিউনিটি রেডিও, এক হাজার ১৮৭টি দৈনিক পত্রিকা, শতের ওপর অনলাইন পত্রিকার । এসব পত্র পত্রিকা কটার নাম ই বা আমাদের জানা আছে এর কটা ই বা আমাদের চোখের সমানে আসে ? তা হলে প্রশ্ন বহুল প্রচারিত সংবাদ পত্র গুলি ছাড়া বাকী সংবাদ পত্র গুলি চলে কি করে ? অখ্যাত সকল পত্রিকার বেশীর ভাগ সম্পাদক ই বিজ্ঞাপন পাবার আশায় ডিএফপির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিজ্ঞাপন আদায় করে নিচ্ছেন সেই সাথে সামগ্র দেশ থেকে সংবাদিক নিয়োগের নাম করে চালায় সাংবাদিক পরিচয়পত্রের বানিজ্য আর তাতেই জন্ম হচ্ছে নানা ভুইপোড় সংবাদিকের । আর এসকল ভূইপোড় সাংবাদিকরাই সমগ্র দেশে একটা বিশেষ বিড়ম্বনার নাম হয়ে দাড়িয়েছে । বিশেষ করে প্রতিনিয়ত ই বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়ি ও মোটর সাইকেলে লেখা দেখা যায় সাংবাদিক। তিন চাকার সিএনজি চালিত আটোরিক্সা ও এর ব্যতিক্রম নয় । যা আমাদের পুলিশ প্রশাসনকে বিব্রত অবস্হার মধ্যে রাখে। এ ধরনের মোটরযান দিয়েই অনক সময় সংগঠিত হচ্ছে নানা অপরাধ । সেই সাথে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পরছে ভূইপোড় সাংবাদিকরা । এ ধরনের সাংবাদিকদের জন্যই অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়িত হচ্ছে সাংবাদিকতার পেশা । সাংবাদিকের কলম চলবে সত্যের পথে, কলম চলবে নির্ভীকতায়,সাংবাদিক চলবে আলোক মশাল হয়ে। সম্পাদক হবে সুর্য্যের মত। যার আলোতে আলোকিত হবে সমাজ ,সাংবাদিক,বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি সহ পত্রিকার প্রত্যেকটা বিভাগ। ন্যায়ের পথে মৃত্যু এতো মৃত্যু নয় অন্যদের বেঁচে থাকার প্রেরণা । সাংবাদিক বেঁচে থাকে তাঁদের লিখনীর মাধ্যমে। সৎ সাহসী সাংবাদিক আসে যুগে যুগে ।তাঁরা অমর।তাঁরা চির স্মরণীয়। তাই এ মহান পেশার পবিত্রতা বজায় থাকবে এটাই কামনা

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s