লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায় নি !

গেল ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম অধ্যায় রচিত হয়েছে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদ মত দুই পরাক্রমশালী মহা-অপশক্তিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে । অবশ্য এর আগে একই অপরাধে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামের সহকারি সেক্রেটারিজেনারেল কাদের মোল্লার ও চলিত বছরের ১১ এপ্রিল জামাত-ই-ইসলাম বাংলাদেশের আরো এক সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। গণদাবির প্রেক্ষিতে ও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া হিসেবে দীর্ঘকাল পর হলে ও একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে পর্যায়ক্রমে বিচারের রায় ও কার্যকর হচ্ছে । আরো বেশ কয়েক মামলায় কয়েক জনের বিচারের রায় ও চূড়ান্ত হবার পথে শতাধিক মামলা রয়েছে তদন্তাধীন । আমাদের একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধীদের বিচার নিয়ে সবার ই কমবেশি ধারনা আছে তাই নতুন করে বলার তেমন কিছু না থাকলে ও বলতে হয় যে বাংলাদেশের প্রগতিশীল শান্তিকামী প্রতিটি মানুষের ই প্রাণের দাবি হলো একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার । এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবার পর থেকেই দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারি চক্র নানা ভাবে এ বিচার বাধাগ্রস্হ তথা বানচালের পায় তারা করে আসছিল যারা এখনো থেমে নেই । নানা প্রতিকূলতার পর ও বর্তমান সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বিন্দু মাত্র বিচলিত হয়নি । প্রতিটি রায় কর্যকর হবার আগে ও পরে আমরা দেখেছি দেশী বিদেশী কুচক্রী মহল রায় কার্যকর নিয়ে বিরুপমন্তব্য সহ হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে সাকা ও মুজাহিদের রায় কর্যকর হবার পর ও এর বিপরীদ হয় নি । জামাত শিবির ইতোমধ্যে হরতাল দিয়ে আমাদের আদালতের রায়ের অবমাননা করেছে ও তাদের ঘনিষ্ট মিত্র রাষ্ট্র পাকিস্হান তো বেজায় ক্ষিপ্ত । পাকিস্হানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দেশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিবৃতিতে পাকিস্হানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় “ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাকিস্তান শঙ্কিত “। সেই সাথে পাকিস্হানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের চলমান একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে ত্রুটি পূর্ন বলে ও মন্তব্য করা হয় । পাকিস্হানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের বিবৃতি ও ছিল প্রায় একই রকম পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান ” সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ডকে ‘পাকিস্তানের সমর্থকের’ বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তান জামাত-ই-ইসলাম ইতোমধ্যে সাকা ও মুজাহিদের রায়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের প্রধান সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্যের কারণেই জনগণকে দণ্ড দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকায় পাকিস্তানের একজন সত্যিকারের বন্ধুকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর হয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে তিনি দিনটিকে কালো দিন হিসেবেও অভিহিত করেন। পাকিস্তানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার বিপক্ষে থাকা মানুষদেরকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ হত্যা করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পাঞ্জাব প্রদেশের নেতা মিয়া মেহমুদ রাশিদ পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে আজ সোমবার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পেশ করেছেন । প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানের ভাবাদর্শের সমর্থকদের অব্যাহতভাবে ফাঁসি কার্যকর করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) বিষয়টি উত্থাপনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ । এ বক্তব্য ১৯৭১ সালে তাদের চরম পরাজয়ের প্রতিশোধ স্পৃহার ই বহিঃপ্রকাশ। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের প্রত্যেকের ই ফাঁসি কর্যকর হওয়ার পর এদের পরিবার ও তাদের রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তাদের জন্য এমন ভাবে সাফাই গাওয়া হয়েছে যে এতে সমগ্র বাংগালী জাতি চরম ভাবে বিব্রত বোধ করছে । সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে পরোক্ষ ভাবে তারা আপরাধীদের অপরাধকে ই সমর্থন করেছে । সাম্প্রতি জানলাম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে নাকি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখে নেয়ার হুমকি ও দেয়া হয়েছে । আমি নিশ্চিত যে মানবতাবিরোধী আপরাধে দন্ডিত প্রত্যকের পরিবারে কাউকে না কাউকে রাজনৈতিক দল গুলি কাছে টেনে নিবে এমন কি জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ও মনোনায়ন দিবে ! হয়তো অর্থ ও সম্পদের জোরে আবার হয়তো কোন এক সময় এরা ও সংসদে আসতে পারে এরা ও মন্ত্রী হতে পারে । যদিও এগুলি আবার ব্যক্তি গত ভাবনা তার পর ও কেন জানি মনে এ গুলি নিয়ে আমাদের ভাবার সময় এসেছে । একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী আপরাধীদের রায় কার্যকর হওয়ায় আজ সমগ্র জাতি আনন্দিত । আমি ব্যক্তি গত ভাবে মনে করি ফাঁসি ই শুধু তাদের এক মাত্র প্রাপ্য ছিল না সেই সাথে আমাদের স্বাধীন দেশের রক্ত চুষে রাজাকার, আলবদরা যে অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে সে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে আমাদের স্বাধীনতার জন্য যারা সব কিছু বিসর্জন দিয়ে আজ যারা নিঃস্ব তাদের মাঝে সেই সম্পত্তি বন্টন করে দেওয়া । যাতে এই অশুভ শক্তির পরবর্তী প্রজন্ম সেই অর্থ সম্পত্তি কাজে লাগিয়ে আমারে জন্য নতুন করে দানব হিসেবে আর্বিভূত না হতে পারে ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s