ধর্মীর মৌলবাদের চাপাতি ও আমাদের মুক্তমত ও মুক্তিযুদ্ধ !

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুক্ত চিন্তা বা মুক্তবুদ্ধির মানুষ বাংলাদেশে থাকবেন না এটা কি করে সম্ভব ? এদেশের প্রায় সবাই যে ধার্মিক কেউ মুসলিম কেউ হিন্দু কেউ বৌদ্ধ কেউ বা খ্রিষ্টান ধর্মকে পুঁজি করে আছে কিন্তু কতজন মানুষ হয়ে আছে সেটাই বড় প্রশ্ন ? গত পরশু আমারি পরিচিত এক মুসলমান অত্যন্ত উল্লাসিত চিত্তে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছিল আর এক ব্লগারকে কোপাইয়া মারছে কি যে আনন্দ লাগছে এই সালা ব্লগার গো সব গুলের কুত্তার মত মইরা জাহান্নামে পাঠেনো এখন উত্তম কাজ তার সাথে যোগ হলেন আরেক হিন্দু উনি আরো নিকৃষ্টা ভাষায় হিংস্র ভংগিতে বললেন — মাগীর পোলাগো ধইরা ধইরা জ্বালাইয়া মারা উচিত । সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সাংবাদিক সালেহ বিপ্লব ফেসবুক পাতায় এক স্টাটাসে ব্লগার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছিলেন যা নাকি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কাওমি মাদ্রসার ছাত্রও করবে না তনি লিখেছিলেন ” ব্লগারের কাজ ব্লগার করছেন কামড় দিয়েছে পায় তার কারনে মানুষের মুখে ব্লগার কামড়ানো শোভা পায় ।” তার স্টাটসের পর অনেকেই বিভিন্ন ভাষায় মন্তব্য করছেন । অবশ্য এর পর থেকে তার সেই ফেসবুক আইডি ভেরিফিকেশনের জন্য স্হগিত আছে । যাই হউক আমি সেদিকে যবো না আমি যে কথা বলতে চাচ্ছি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ই আমাদের সকল প্রেরণার উৎস । কারণ মাহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর আড়াই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময় আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যই ছিল একটি কুসংস্কার মুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ নতুন দেশ গড়া অর্থাৎ আমাদের প্রিয়মাতৃভূমি বাংলাদেশ হবে ধর্মীয়  কুসংস্কার মুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ । কিন্তু বাস্তবতা হলো তার সম্পর্ণ বিপরীত । সদ্য স্বাধীনদেশে একটি মাত্র কবিতা লেখার অপরাধে মাতৃভূমি থেকে বিতারিত হতে হয়েছে কবি দাউদ হায়দার কে ধর্মীর উগ্রবাদীদের চাপের কাছে মাথা নত করতে হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আর তার থেকেই  ধর্মীর উগ্রবাদী শক্তি এদেশে শিকড় গেথে বসেছে যা আজ বিষবৃক্ষে পরিনত হয়েছে ।বাংলাদেশে যারা ই উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠির মাতবাদের বাহিরে বা এর বিরুদ্ধে যারাই মত প্রকাশ করেছে বা তাদেকে হয় দেশ ছাড়া না হয় দুনিয়া ছাড়া করছে । বর্তমান তরুন প্রজন্ম বিবেকের দিকদিয়ে প্রায় সবাই স্বচ্চার আর বর্তমান তরুন প্রজন্মের প্রতিবেদের ই ফসল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘৃনিত অপরাধীদের বিচার । যদিও বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নাটক করে ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল তার মানে বর্তমান আওয়ামী সরকার যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার কার্য শুরুকরেছিল তা ছিল তাদের বিরোধী রাজনৈতিক জোট কে দূর্বল করা । অর্থাৎ জামাত-ই-ইসলামকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় কাবুকরে বিএনপি কে দূর্বল করা ।তাই আমরা দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে কুক্ষাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিচার কোন পাথে যাচ্ছিল । সেদিন শুধু গনজাগরন মঞ্চের মাধ্যমে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের তরুন শক্তি উজ্জিবত ও স্বেচ্চার হওয়ার কারনেই যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত বিচার ও তা কার্যকর হচ্ছে । যাই নতুন করে কাল হয়ে দাড়িয়েছে নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল মানুষ গুলির একের পর এক ধর্মীর উগ্রবাদী শক্তি চাপাতির কোপে দীর্ঘায়িত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল । কিন্তু কোন হত্যার ই কুলকিনারা করতের ব্যর্থ হয়েছে বর্তমানের তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তির সরকার ও তার প্রশাসন ।যখন গনজাগরন মঞ্চের সৃষ্টি হয়েছিল তখন মন্ত্রী এমপি আর রাজৈতিক নেতার সিরিয়াল লাগিয়েছিলেন অতি উৎসাহি রাজনৈতিক চামচারা তখন গনজাগরন মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত সহ সেখানে অংশনেয়া তরুনদের নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধাবলে উপাধিদিতে কূন্ঠাবোধ করেনি । মহান সংসদের দাড়িয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বলেছিলেন  ” আমি এখানে থাকলে কি হবে কিন্তু আমার মণ পরে আছে শাহবাগের গনজাগরন মঞ্চে ” । যাই হউক ধর্মীর উগ্রবাদী শক্তি তাদের শক্তির চাপাতি মহড়া শুরু করলো খুন হলো ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন । এর পরথেকেই শুরু হলো বাংলাদেশের নতুন ধর্মীর উগ্রবাদী শক্তির প্রথা ব্লগার খুন । আর অতি কৌশলে জামাত-শিবির খোলস পাল্টিয়ে নতুন রুপধারন করলো যার নাম হলো হেফাজতে ইসলাম আর সেই হেফাজতে ইসলাম ই এদেশের মানুষের কাছে নতুন ধরনার জন্ম দিল যে ব্লগার মানেই নাস্তিক । আর যেখানেই ব্লগার পাবে তাদেরকে খুন করতে হবে । তৈরি করলো এক নতুন তালিকা যাদের কে আজ খুন হতে হচ্ছে এক অজানা কারনে । অদ্যবধি যার শেষ শিকার ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়ের (নিলয় নীল) । প্রতিটি হত্যার পরই সরকার প্রসাশন আর মিডিয়া তৎপরতায় মনে হয় এবার বুঝি খুনিরা ধরা পরবে কিছুদিন না যেতেই আবার নতুন ঘটনা ! পুলিশ র‍্যাব সিআইডি এফবিআই কেউই কোন কিনারা করতে পারছেনা এই হত্যার কত না শক্তিশালী এই খুনিরা ? ব্লগার নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়ের (নিলয় নীল) বাঁচতে চেয়েছিল পুলিশের দ্বারস্হ হয়েছিল কিন্তু পুলিশ নিলয়ের কোন কাজে আসেনি বরং আমাদের মেরুদন্ড হীন পুলিশ নিলয়কে দেশছাড়তে উপদেশ দিল । বাহ কত সুন্দর উপদেশ ! প্রত্যেক ব্লগার হত্যার পর ই প্রতিবাদ হয় প্রজন্ম চত্ত্বরে আজ আর কোন মন্ত্রী এমপি বা রাজনৈতি চামচারা ভিড়জমায়না প্রজন্ম চত্ত্বরে ।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর মন ও আজ আর কাঁদে না প্রজন্ম চত্ত্বরে জন্য । যে বীরকণ্যা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী যিনি নাকি নাম করছেন এই  প্রজন্ম চত্ত্বরে তাকে ও আজ হতয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে । তার পরও প্রসাশন নিশ্চুপ তার পরো নিশ্চুপ সমগ্র জাতি । হয়তো এক দিন এভাবেই ধর্মীর উগ্রবাদীর চাপাতির কাছে চুপ হয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে কথা বলার সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে যাবে মুক্তচিন্তা ও মুক্তচিন্তার মানুষ গুলি ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s