কিভাবে অস্বীকার করবো এ দায়বদ্ধতা !

গত কাল থেকেই ভাবছি কিছু লিখবো তবে কি নিয়ে লিখবে তা ঠিক করতে পারছিলাম না দিধা দ্বন্দের মধ্যে ছিলাম কি নিয়ে লিখবো বিজয়ের মাস তাই ভাবছিলম আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বা আমাদের বিজয় নিয়ে কিছুলিখবো কিন্ত কেন জানি এখন আর মুক্তিযুদ্ধ , স্বাধীনতা , বিজয় নিয়ে লিখতে বা কিছু বলতে মোটে ও রুচি পাইনা বা ইচ্ছে হয়না । কারন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা আমাদের বিজয় আজ শুধু মাত্র কিছু ব্যক্তি বা গোষ্টি বিশেষের জন্য আর ঐ ব্যক্তি বা গোষ্টি বিশেষ ই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা আমাদের বিজয়ের ফল ভোগ করছে আর আমারা আপমর জনসাধারন হলাম ছাগীর তিন বাচ্চার তৃতীয় টা যে শুধু মায়ের দুধ না খেয়েই লাফায় । তাই আপাতঃ দৃষ্টিতে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতা আমাদের বিজয় নিয়ে কিছু লিখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিনা । আজ ৯ই ডিসেম্বর আমাদের দেশ ও জাতীর জন্য একটা কলংক ও ঘৃনাময় দিন আজ । আজ বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০১২ বর্তমান ২০ দলীয় জোট তৎকালী ১৮দলীয় জোট সরকারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচির ঘোষনা দেয়। এই কমর্সূচীর সমর্থনে সকাল ৯টার দিকে পুরোনো ঢাকা জজ কোর্ট থেকে বিএনপি-জামত সমর্থিত ১৮দলীয় জোটর সরকারবিরোধী আইনজীবীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে গেলে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। আক্রান্ত আইনজীবীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পথচারী বিশ্বজিৎ দৌড়ে প্রথমে নিকটস্থ ভবনের দোতলায় অবস্থিত একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে আশ্রয় গ্রহণ করে। ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতা কর্মীরা ঐখানে ই বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। নির্বিচার কিল-ঘুষি-লাথি চালানো হয়। তার গায়ে লোহর রড ও ধারালো অশ্র দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। আহত বিশ্বজিৎ প্রাণ বাঁচাতে পাশের আরেকটি ভবনে ঢুকে পড়ে। পশ্চাদ্ধাবন করে সেখানেও বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। ৮-১২ জনের একটি মৃত্যুকামী দল তাকে আঘাত করতে থাকে, পেটানো হয় সবল লৌহ শলাকা দিয়ে এবং চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হতে থাকে। তার কাপড় ছিঁড়ে যায়, সারা শরীরে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। সে আবার পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আঘাত অব্যাহত থাকে। সে এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পথচারীদের কয়েকজন বিশ্বজিৎকে পাশের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের কর্মীরা বাধা দেয়। প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় উঠে দৌড় দেয়; কিন্তু শাঁখারীবাজারের একটি গলিতে গিয়ে ঢলে পড়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় এক রিকশাওয়ালা তাকে নিকটস্থ মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। অচিরেই মৃত্যু এসে তাকে সকল আক্রমণের ঊর্দ্ধে নিয়ে যায় । সেদিন প্রকাশ্য-দিবালোকে শত শত মানুষ ও আইনরক্ষা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় পঁচিশ বৎসর বর্ষীয় সাধার দর্জিপেশার যুবক বিশ্বজিৎকে জাতির বিবেক সেদিন খুব মজা করে উপভোগ করেছিল বিশ্বজিৎ হত্যার এই লোমহর্ষক দৃশ্য । এমনি আরো একটি লোমহর্ষক দৃশ্য আমাদের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের উছিলায় আমরা সরাসরি উপভোগ করেছিলাম ২০০৬ সালের ২৮ অক্টেবর পল্টন মোড়ে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার নির্দেশে তার ই জোটের নেতা কর্মীরা কতই না উল্লাস করে লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে জামায়াত শিবিরের ১২ জন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে । আইন নিজের হাতে তুলের অধিকার বা ক্ষমতা কারো আছে কি না সে টা আমার জানা নেই তবে একজন সুস্হ মস্তিকের মানুষ হিসেবে যতটুকু জানি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার বা ক্ষমতা কারো ই নেই । তবে বর্তমান সরকারের আমলে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের হাতে দেশের আইন আজ বোধ হয় বন্দি তা বুঝতে হয়তো দেশ বাসীর আর বাকীনেই অবশ্য ছাত্রলীগের নেতারা ও তাই বলছেন আজ সমগ্র দেশের শিক্ষাব্যবস্হ্যা ছাত্রলীগ দ্বারা যেখানে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে প্রতি টি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত ঠিক সেই মুহুর্তে গত কাল চট্রগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ছাত্রলীগের সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক- সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেছেন প্রাধান মন্ত্রীর সাথে তাদের সম্পর্ক অর্থাৎ ছাত্রলীগের সম্পর্ক ঠিক রাখতে আইন কে তাদের নিজের হাতে অর্থাৎ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের হাতে তুলে নিতে । ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক- সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা ধরে নিতে পারি দেশে আইন বলতে কিছু ই না আথবা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ।প্রশংগত আমি বলতে চাই বাংলাদেশের মাটিতে জামাত-শিবিরের কথাবলার তথা রাজনীতি করার কোন মৌলিক অধিকার নেই কোন ভাবেই সুস্হ্য বিবেক আমাদের স্বাধীন দেশে জামাত-শিবিরের রাজনীতি করার তাদের দোষরদের মাথা উচূ করে কথা বলা সহ্য করতে পরবে বলে মনে হয় না কিন্তু বাস্তব সত্য হলো আমাদের ক্ষমতা লোভী প্রত্যেক শাষক গোষ্টী ই ক্ষমতার আসনে উঠার সিরি হিসেবে ব্যব হার করছে জামাত-শিবির নামক হিংস্র এই গোষ্ঠি কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এই হিংস্র গোষ্ঠি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে তাদের আর সেই সুযোগে জামাত-শিবির নামক হিংস্র এই গোষ্ঠি ফুলে ফেপে জাতির জন্য বিষফোড়ায় পরিনত হয়েছে যার খেসারত দিতে হচ্ছে আজ সমগ্র বাংগালী জাতিকে । আর যে ই যা বলুন না কেন জামাত-শিবিরকে রাজনীতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা দায় কেউ এড়াতে পারবে না । যে মনটি পারবেন না আপনারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টেবর পল্টন মোড়ের ১২ জন হত্যার দায় কি করেই বা দায় এড়াবেন বিশ্বজিৎ দাস হত্যার ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s